প্রকাশিত: ১৯/১০/২০২১ ৮:৫৪ এএম

পটুয়াখালীতে নাজমুল আকন (২৩) নামের এক কলেজছাত্রকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে ইশরাত জাহান পাখি (২৫) নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নাজমুল বাদী হয়ে গত ৩ অক্টোবর পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় পাখিসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মো. আমিরুল ইসলাম মামলাটি গ্রহণ করে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নাজমুল আকন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মো. জালাল আকনের ছেলে ও পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। অভিযুক্ত ইশরাত জাহান পাখি একই উপজেলার গাজীপুর এলাকার আবদুল আউয়ালের মেয়ে।

নাজমুল আকনকে অপহরণ ও জোর করে বিয়ে করার একটি ভিডিও ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। যাতে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর (ইশরাত জাহান পাখি) বাম পাশে নাজমুল বসে আছেন, পেছন থেকে নাজমুলের ঘাড় এক ব্যক্তি চেপে ধরে রেখেছে। সেখানে আরও একজনকে উপস্থিত দেখা যায়। ওই সময় ওই তরুণীকে নীল কাগজে সই করতে দেখা যায়। সই গ্রহণের পর নাজমুলকে মিষ্টি খাইয়ে দিলে নাজমুল তা মুখ থেকে ফেলে দেন।

মামলা দায়েরের পর গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে পাখি নিজেকে নাজমুলের স্ত্রী দাবি করে নাজমুলের বাবার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

নাজমুল আকনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল-নোমান জানান, নাজমুল পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ছাত্রাবাসে থাকেন। আসামি পাখি দীর্ঘদিন ধরে তাকে মোবাইল ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। নাজমুল এতে রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে চোখ বেঁধে অপহরণ করে পাখি ও তার লোকজন। পরের দিন ২৮ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে সাত-আট জন ব্যক্তি জোর করে তাকে একটি নীল কাগজে সই করতে বাধ্য করে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই কাগজ দিয়ে ওই তরুণী কাবিননামা তৈরির পায়তারা করছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পাখি বলেন, ‘নাজমুলের সঙ্গে আমার দুই বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নাজমুল নিজ ইচ্ছায় আমাকে বিয়ে করেছে। এ কারণে বর্তমানে আমি ওর বাড়িতে অবস্থান করছি। এখানে অপহরণ কিংবা জোর করে বিয়ে করার যে অভিযোগ ওঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান মনির জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত

উখিয়ার শ্মশানভূমি নিয়ে বিতর্কসরকারি রেকর্ড ও আদালতের নথি সামনে এনে পরিচালনা পরিষদের বক্তব্য

কক্সবাজারের উখিয়া সদরের দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর ও জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ...

চলে গেলেন ঢাবি-জবি-ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৬ জন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ ...

ভুয়া এনআইডিতে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফেরানোর চিন্তা

জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের পর ওই পরিচয়ে পাসপোর্ট বানাচ্ছেন কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গারা। ...

নিরাপত্তা জোরদারে টেকনাফের হ্নীলায় হচ্ছে সেনা ক্যাম্প, চলছে স্থান নির্ধারণের কাজ

কক্সবাজারে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের ...